কালের বির্বতনে ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিনে বন্দি হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শৈশব। একসময় কোলাহলে মুখরিত গ্রামীণ জনপদে এখন নির্জনতা দেখা গেলেও নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এখনো চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী চিত্র—ঐতিহ্যবাহী ‘ভারচ্যাঙ্গারি’তে চড়ে শিশুদের বাঁধভাঙা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।ভারচ্যাঙ্গারি মূলত বাঁশের তৈরি অগভীর দুটি ঝুড়ি বা চ্যাঙ্গারি, যা শক্ত দড়ি দিয়ে একটি বাঁশের লাঠির (বাইঙ্কা) দুই প্রান্তে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
অতীতে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে ফসল বা পণ্য বহনে এটি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে তারই অনুকরণে পরিবারের অভিভাবকেরা সকাল বা বিকেলের অবসর সময়ে দুই চ্যাঙ্গারিতে কচি-কাঁচা সন্তানদের বসিয়ে মেঠোপথে ঘুরিয়ে ও দোল খাইয়ে নির্মল আনন্দ দিচ্ছেন। যা গ্রামবাংলার সবুজ প্রকৃতি, মেঠোপথ আর নির্মল শৈশব—সবকিছু মিলিয়ে এ যেন এক অন্যরকম জীবনকাব্য। উপজেলার উত্তর দুরাকুটি পশ্চিম পাড়া গ্রামে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। ওই গ্রামের বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম তাঁর দুই সন্তানকে কাঁধে নেওয়া ভারচ্যাঙ্গারিতে বসিয়ে মেঠোপথে ঘুরিয়ে আনন্দ দিচ্ছেন।মিনারুল ইসলাম বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও গ্রামবাংলা কানামাছি, গোল্লাছুট বা দাঁড়িয়াবান্দা খেলায় মুখর থাকত।
এখনকার শিশুরা চার দেয়ালের মাঝে স্মার্টফোন, অনলাইন গেম আর কার্টুনে বুঁদ হয়ে থাকছে। তাদের স্ক্রিননির্ভরতা কমাতে এবং বাপ-দাদার প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ভারচ্যাঙ্গারি দিয়ে শিশুদের বিনোদন দেওয়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন জানান, গৃহস্থালির পণ্য পরিবহনের একটি সনাতনী মাধ্যম হলেও শিশুদের কাছে এটি এখন বাঁধভাঙা আনন্দের উৎস। প্লাস্টিকের খেলনা ও ডিজিটাল ডিভাইসের দাপটে লোকজ বিনোদনের মাধ্যমটি বিলুপ্তির পথে হলেও এমন দৃশ্য শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ এপি, ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা ও বিনোদন কর্মকর্তা স্বপন কিসপট্টা বলেন, “প্রাচীন লোকজ ভারচ্যাঙ্গারির দোলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যান্ত্রিক এই যুগে এমন প্রথাগত শিশু বিনোদন সত্যিই বিরল ও প্রশংসনীয়