লাইসেন্সবিহীন চকরিয়া শেভরণ হাসপাতালেই প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি

দে
মোহাম্মদ আইয়ুব
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫
লাইসেন্সবিহীন চকরিয়া শেভরণ  হাসপাতালেই প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের আহাজারি

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে পরিচালিত শেভরণ হাসপাতাল নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। হাসপাতালটিতে আবাসিক চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্স না থাকার পাশাপাশি অন-কল চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


 একই সঙ্গে ২০২১ সাল থেকে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীনভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


এরই মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


নিহত রোগীর নাম জন্নাতুল মাওয়া লুছি (২৬)। তিনি চকরিয়ার হালকাকারা এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেফায়েত মাসুমের স্ত্রী। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের জন্য তিনি ২৬ আগস্ট শেভরণ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক আবাসিক চিকিৎসক এবং প্রশিক্ষিত নার্সের উপস্থিতি রয়েছে কি না—এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার রোগীদের জন্য জরুরি সময়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।


জানা গেছে, জন্নাতুল মাওয়া লুছির চিকিৎসার সঙ্গে ডা. সৌরভী-এর নাম সংশ্লিষ্ট হিসেবে উঠে এসেছে। তবে ওই রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, রোগীর অবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন এবং চিকিৎসা-প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, শেভরণ হাসপাতালে সার্বক্ষণিক আবাসিক ডাক্তার নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী অন-কল চিকিৎসকদের ডেকে এনে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নার্স না থাকার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে হাসপাতালটি বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি অভিযোগটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে অনুমোদন ছাড়া রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


হাসপাতালটির পরিচালনার সঙ্গে নুরুল কবির, মোশাররফ হোসাইন সুমন ও রহমত উল্লাহ জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে হাসপাতালটির বর্তমান লাইসেন্স, অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা, চিকিৎসক ও নার্সের অনুমোদিত জনবল এবং রোগী মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার নুরুল কবির বলেন,ভর্তি হওয়া প্রসূতি নারীর মৃত্যু অপচিকিৎসায় নয় বলে তিনি বিষয়টিকে এড়িয়ে যান।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য