নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস ও ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ডেস্কের আয়োজনে মুক্তমঞ্চের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মোমবাতি প্রজ্বালনের পাশাপাশি নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় ভয়াবহ বন্যায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শোক, সমবেদনা ও সংহতি জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমানসহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে কৃষি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জরুরি বলেন, ‘আমরা আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এখানে একত্রিত হয়েছি। নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে পরিবারের সদস্য, ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়েছেন। এখান থেকে হয়তো তাদের জন্য বড় কোনো সহায়তা করতে পারছি না। তবে তাদের প্রতি আমাদের শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করতে চাই।’
বাকৃবির আন্তর্জাতিক ডেস্কের পরিচালক ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নেপালের এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাকৃবিতে শতাধিক নেপালি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তারা আমাদের পরিবারেরই অংশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও নেপালের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। বাকৃবি একটি পরিবার হিসেবে উপাচার্যের নির্দেশনায় সবসময় তাদের পাশে থাকবে।’
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘নেপালে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে সমব্যথী। বন্যায় ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশ সরকারও নেপালের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ পাশে থাকবে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘নেপালের বন্যায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তাদের শক্তি ও ধৈর্য কামনা করি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে যেন তারা নিঃসংকোচে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি অংশ ধসে ভূমিধসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।