সুন্দরগঞ্জের বিপুলের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ

দে
মোঃ হযরত বেল্লাল
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩২
সুন্দরগঞ্জের বিপুলের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ



গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য বিপুল সোনারের বিরুদ্ধে জমি জবর দখল, মারপিট, হত্যা, চাঁদা দাবি, বালু উত্তোলন, নারী নির্যাতনসহ নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ ও চিলমারি থানায় অন্তত এক ডজন মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু থেমে নেই তাঁর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বিপুলকে গ্রেপ্তারসহ তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সোচ্ছার হয়ে উঠেছেন চরবাসী।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের লখিয়ারপাড়া গ্রামের নুরনবী সোনারের ছেলে বিপুল সোনার, ২০১৩ সালে বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহীতে যোগদান করেন। চাকরি করা কালিন সময় বিপুল বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী থাকার পর গোপনে আরও একটি বিয়ে করেন। কিছু দিন পর বিপুল দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন এবং প্রথম স্ত্রীর উপর নির্মম নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায় প্রথম স্ত্রী সেনাসদর দপ্তরে অভিযোগ করলে ২০১৮ সালে বিপুল চাকরিচ্যুত হন। চাকরি চলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর বিপুল দ্বিতীয় স্ত্রীর কিছু নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। এনিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী বিপুলের নামে পর্ণোগ্রাফিসহ যৌতুকের মামলা করেন।


সর্বশেষ চলতি মাসের ১০ আগষ্ট হরিপুরের লখিয়ার পাড়া গ্রামের মোছা. জেলী বেগমের বসতবাড়িতে বিপুলসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী অনাধিকার প্রবেশ করে মারপিট, ভাংচুরসহ লুটতরাজ করে। এনিয়ে জেলী বেগম থানায় মামলা করেন।  


স্থানীয় আইনুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল কাশিমবাজার তথা হরিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এখনোও তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে পূর্ব শক্রতার জেরে গাড়ী চাপা দিয়ে হত্যা করেন। এনিয়ে বিপুলের নামে হত্যা মামলা এখনো চলমান আছে।


অভিযোগ পত্রের সাথে যুক্ত সিডিএমএসের মাধ্যমে পিসিপিআর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিপুলের নামে ধর্ষণ চেষ্টা, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, মারপিট, অবৈধ বালু উত্তোলন, অন্যের জমি জবর দখলের অপরাধে সুন্দরগঞ্জ ও চিলমারী থানায় ওয়ারেন্টসহ এক ডজন মামলা রয়েছে। তার এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়টি বর্তমানে এলাকায় দারুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে ভূক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে আনগত ব্যবস্থা গ্রহনে সোচ্ছার হয়ে উঠেছেন। 

      স্থানীয়রা বলেন, বিপুল সমাজের একটা ক্যান্সার, এটাকে যদি এখনে নির্মূল করা না যায়, তাহলে আরো বড় ধরনের অপরাধ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক পরিবার পথে বসবেন। 


 এ বিষয়ে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, আলহাজ্ব মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, কাশেম বাজার এলাকার লোকজন এই সন্ত্রাসী বিপুলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়ে অতিষ্ঠ, আজ একে মারে কাল ওর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়, বিপুলের ভয়ে রাস্তা-ঘাটে কারো স্ত্রী সন্তান ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। এছাড়া আমি একজন চেয়ারম্যান হয়েও তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শিকার হতে হচ্ছে। তৎকালীন সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে এই কাশেম বাজারে হাজারো লোকের সামনে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাকে মারতে এসেছিল। পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বেশ কিছু দিন আগেই মিলন নামে একজনকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি সন্ত্রাসী বিপুলকে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।      

     অভিযুক্ত বিপুল সোনারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি এলাকার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

     সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পুলিশ তাকে খুঁজছে। মুশকিল হচ্ছে সে দূর্গম চরে বসবাস করে। গ্রেপ্তার করতে গেলে টের পেয়ে কুড়িগ্রামে চলে যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য