১৭ বছরের রাজপথের ত্যাগের পরও ভালো নেই পিরোজপুরের রিয়াজ-রশ্মি দম্পতি

দে
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৭
১৭ বছরের রাজপথের ত্যাগের পরও ভালো নেই পিরোজপুরের রিয়াজ-রশ্মি দম্পতি


পিরোজপুর প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, হামলা ও কারাবরণের স্মৃতি নিয়ে আজ নিজেদের মূল্যায়ন ও বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রিয়াজ মাতুব্বর ও তার স্ত্রী, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক স্বাম্মী আক্তার রশ্মি। এত ত্যাগ তিতিক্ষার পরেও ভালো নেই রিয়াজ রোশ্নি দম্পতি। সন্তানদের নিয়ে নানা টানা পড়ে চলছে তাদের জীবন। দলীয় সুসময় এলেও রাজনৈতিক সুসময় যেন তাদের জন্য নয়।


রিয়াজ মাতুব্বর জানান, ২০১৩ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি হন। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক, নির্যাতন ও কারাবরণের স্মৃতিও তার কাছে রয়েছে। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ সালের নির্বাচনী আন্দোলনে পিরোজপুরে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার কথা জানান।


রিয়াজ বলেন, মামলা, হামলা ও কারাবরণ আমাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি। কিন্তু আমার রাজনৈতিক ত্যাগের সঙ্গে আমার পরিবারও কষ্ট করেছে। আমি কারাগারে থাকলে স্ত্রীকে স্বামী ছাড়া এবং সন্তানকে বাবাকে ছাড়া থাকতে হয়েছে।


পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক স্বাম্মী আক্তার রশ্মি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায়ও তিনি রাজপথে মিছিল করেছেন এবং নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে মিছিল ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছেন। সেই আবেগ থেকেই সন্তানের নাম রাখেন ‘খালেদা খানম পুতুল’।

বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রচারে নিজের অর্থ ব্যয় করে শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণের কথাও জানান রশ্মি। মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করলেও বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে নিজের সন্তানদের শিক্ষা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তিনি।


রিয়াজ-রশ্মি দম্পতির ভাষায়, “আমরা করুণা চাই না, পদ-পদবির জন্যও রাজনীতি করিনি। শুধু চাই, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিল তাদের ত্যাগ যেন ভুলে যাওয়া না হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর আজ আমাদের বলতে হচ্ছে আমরা ভালো নেই।”


পিরোজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, আসলে রিয়াজ রোশ্নি দম্পতি বিএনপি'র দুঃসময়ের কান্ডারী। দলের সুসময় তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরী।


উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি'র বিরোধী দলের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন রিয়াজ রোশনি দম্পতি। শুধু তারাই নন বিরোধী দলের দমন পিড়নের রিয়াজের পরিবারের ছোট ছোট সদস্যরাও এ ত্যাগের সাথে জড়িত। তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতার কথা বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দিয়ে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের আবেদন জানাতে চান।



সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য