লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি. কুমিল্লার লাকসামের বিভিন্ন সড়কে মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছেন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এ সময় তাঁরা ৭২টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে নানাহ রকম ব্যবহা গ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে ৬৩টি মোটরসাইকেল, ৪টি পিকআপ আটক এবং ৫টি অন্যান্য যানবাহন রয়েছে।
ওইদিন সকাল থেকে কুমিল্লা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জন মো. মাহবুবুর রহমান'র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
সার্জন মো. মাহবুবুর রহমান জানান, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার'র (এসপি) নির্দেশক্রমে সড়কে যানবাহন চলাচলে নিরাপদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র তল্লাশী ও যাঁচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে লাকসামে দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, একশ্রেণির লোকজন অবৈধ মোটরযান ব্যবহারের মাধ্যমে সড়কের নানাহ রকম অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া, ওইসব মোটরযানের কোনো বৈধ কাগজপত্র এবং বিআরটি কর্তৃক নিবন্ধন না থাকলে তাঁরা অপরাধ করে সহজে পার পেয়ে যায়। এমনকি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ফলে তাঁদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেজন্য আমাদের একটিই লক্ষ্য-যাতে করে সড়কে শৃংখলা ফিরে আসে এবং দুর্ঘটনারোধে সহায়ক হয়।
সার্জন মো. মাহবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নিবন্ধন ও বৈধ কাগজপত্র বিহীন ৬৩টি মোটরসাইকেল, ৪টি পিকআপ আটক করে লাকসাম থানা হেফাজতে রেখেছেন। এ ছাড়া আরও ৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
তিনি জানান, সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারের রাজস্ব আদায় এবং সড়কের শৃংখলা ফেরাতে তাঁদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেজন্য সচেতন নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য্য। এ ক্ষেত্রে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী অভিযানে ৬৩টি মোটরসাইকেল ও ৪টি পিকআপ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এমন অভিযান একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া, সড়কে যানজট নিরসন ও শৃংখলার ক্ষেত্রে এসব অভিযান নিঃসন্দেহে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। সড়কে যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের এমন চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, কেবলমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সবকিছুই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পুলিশের আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতার বিকল্প নেই। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সচেতনতার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে আন্তরিকভাবে পুলিশকে আইনগত সহায়তা প্রদানের আহবান জানান তিনি।