রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, মিয়ানমার কোনোভাবেই তা চায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক সামি হামদি। তার মতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।
নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গার অনেকে নিজ দেশে ফিরতে চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা এখনো তৈরি হয়নি।
রোহিঙ্গা ও শরণার্থী সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সামি হামদি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন এই জনগোষ্ঠীকে ঘিরে মিয়ানমার নানা ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার পথ বন্ধ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, জাতিগত নিধন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ নয় বছর পরও রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয় রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
সামি হামদি বলেন, রাখাইনে অস্থিরতা বন্ধ করতে পারেনি মিয়ানমার। এ কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রয়োজনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্যের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তুরস্কের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে বলেও মত দেন সামি হামদি।
তৃতীয় কোনো দেশে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশকে এর জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সামি হামদি বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ না করায় ভবিষ্যতে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে চলে গেলে সেটিকে মিয়ানমার নিজেদের এক ধরনের বিজয় হিসেবে দেখাতে পারে। একই সঙ্গে অন্য দেশ থেকেও বাংলাদেশে শরণার্থী আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হলে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, সংকট আরও দীর্ঘায়িত হলে ঢাকা, ওয়াশিংটন, বেইজিং ও দিল্লিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই এর অস্থিরতার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।