গ্যাস সংকট বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্থলভাগে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রয়েছে। এমনকি প্রায় দুই বছর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্যোগ নেয়নি।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের সমস্যার প্রতি সমব্যথী। কিন্তু এই সংকট বহু বছরের পুঞ্জীভূত। দুই বছরের মতো সময় অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, তারাও স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার চেষ্টা করেনি।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না থাকায় তখন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনুকূল ছিল। গত বছর গ্যাসের দাম যেখানে ১২ থেকে ১৪ ডলার ছিল, এ বছর তা বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া এফএসআরইউ মেরামত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে গ্যাসের যে কার্গো রয়েছে, সেটির সরবরাহ আসতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কার্গো সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানা সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমাতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমানোর জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলেও জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। অতিরিক্ত সারও সংরক্ষিত আছে। তবে কিছু এলাকায় সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ও জনগণের স্বার্থেই এই পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দেশে সারের ঘাটতি যাতে না হয়, সে জন্য বড় পরিমাণে সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে ৪ দশমিক ৮২২ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯ লাখ, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮ লাখ এবং এমওপি ১ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে দেশে মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে।