কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩
কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী


কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।


তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর পর যে দায়িত্ব পেয়েছি, এই সময়ে বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। একটি দেশকে শূন্য থেকে শুরু করাও কঠিন। কিন্তু বর্তমানে সমস্যার গভীরতা আরও বেশি। বিগত সময়ে দেশের পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়েছে। তাই দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।


শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ভারতের সরকার শেখ হাসিনার বিষয়ে হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায়ভার নিতে চাইছে না বলেই বিষয়টি বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এটি শেখ হাসিনার জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বাংলাদেশ সব পলাতক আসামিকে ফেরত চায় বলেও জানান তিনি।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই সেখানে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার যেকোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। দুই এলাকার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা রয়েছে। গত ছয় মাসে গোয়েন্দা সংস্থার কোনো ব্যক্তি গণমাধ্যমে ফোন করে কোনো ধরনের চাপ দেননি। এ সময়ে কোনো গুম বা সরকারের মদদে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেনি।


তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সরকারের ভালো কাজগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে সরকারও উৎসাহিত হবে এবং আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবে। একই সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে।


তবে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য, সংবাদ কিংবা তথ্য প্রচার করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার ও রাষ্ট্র এক বিষয় নয়। সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রের পার্থক্য রয়েছে—এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।


প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে গ্যাসের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাসের কার্গো সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। জনগণের এই সংকট নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সৌভাগ্যবশত ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যেও এমন সংকট ছিল না। বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।


জ্বালানি খাতে ভালো অবস্থানে যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, ততদিন পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ থাকবে। বরং আগের তুলনায় খারাপ অবস্থায় দেশ থাকবে না।


সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো আগ্রহী ও মনোযোগী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আগে পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।


এখন পর্যন্ত সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।


একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য