রোহিঙ্গা ঢলের নয় বছর, এখনো শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০
রোহিঙ্গা ঢলের নয় বছর, এখনো শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন



মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান, সংঘাত ও নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। দীর্ঘ এই সময়ে প্রত্যাবাসনের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে, তারও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।


২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি হয়েছে।


সংকট সমাধানে বাংলাদেশ প্রথমে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অ্যারেঞ্জমেন্ট করে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও নানা জটিলতা দেখা দেয়। ২০১৯ সালে ঢাকা-বেইজিং-নেইপিদোর ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে নতুন আশার সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাবাসন শুরুর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।


বর্তমানে সংকট সমাধানে চীনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ভূরাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে ঢাকা-বেইজিং-নেইপিদোর ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে চীন।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে সরকার আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও কাজ করে এ সংকটের সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


এদিকে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটের আর্থিক ও সামাজিক চাপও বাড়ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণে আন্তর্জাতিক সহায়তা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বে একের পর এক নতুন সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ দ্রুত এক ইস্যু থেকে অন্য ইস্যুতে চলে যাচ্ছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্ববাসীর নজরে আনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।


বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন আটকে থাকায় রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যাতে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।


সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্বার্থকে কাজে লাগিয়ে চীন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা করেন।


একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগের আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হলে দীর্ঘদিনের এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য