সুন্দরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি ও দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ

দে
মোঃ হযরত বেল্লাল
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০২
সুন্দরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি ও দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ


সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর বসতবাড়ি ও দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দোকানের মালামালসহ প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহল্লার মৃত রাজিব উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে এস এম সরওয়ার হোসেনের সঙ্গে জমি নিয়ে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে বসতবাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। 


ভুক্তভোগী সরওয়ার হোসেনের অভিযোগ, শনিবার সকাল ১১টার দিকে ২৬ জন নামধারী আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি, ছোরাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় কয়েকজন তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা বসতঘর ও দোকানঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় কয়েকজন তাঁর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে কাঠের আলমারির তালা ভেঙে ড্রয়ারে রাখা ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যান। বাড়ি নির্মাণের জন্য অবসর গ্রহণের পর ওই টাকা তুলে রাখা হয়েছিল।


এ ছাড়া আলমারিতে থাকা প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া দোকান থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার সিগারেট, কোমলপানীয়, বিস্কুট, পানির বোতল, দই, কেকসহ বিভিন্ন পণ্য লুট করা হয়েছে। 


এজাহারে আরও বলা হয়, বাড়ির পূর্ব পাশের ঘরের প্রায় ছয় ফুট টিনের বারান্দা ও তিনটি কংক্রিটের সিঁড়ি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এগুলোর আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা।


ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সরওয়ার হোসেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. জলিল মিয়া। তিনি বলেন, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়। জমিটি আমাদের। এ নিয়ে অভিযোগও করা হয়েছে। এরপরও তাঁরা বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ করছেন। সেটি নিষেধ করতে গিয়েছিলাম মাত্র।


থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, শনিবার রাতে এ ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য