মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর চাঁদা হিসেবে নেওয়া দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান (৫২) মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কাজি। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানান, হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে রাজিবসহ তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সোমবার বেলা দুইটার দিকে রাজিব হোসেন, তাঁর বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে হাবিবুর রহমানের বাসায় যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাঁকে কাটাখালীতে তাঁর কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান। টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, হুমকির মুখে তিনি টাকা দিতে রাজি হন। পরে তাঁকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলার পর স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের টাকা দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, তাঁর বাবা ভয়ে প্রথমে পরিবারের কাছেও বিষয়টি বলতে চাননি। রাত ১০টার দিকে ঘটনা জানার পর তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁর পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান।
নাহিদ হাসানের দাবি, কিছুক্ষণ পর রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সেই টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং অভিযুক্তদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর রাজিব হোসেনকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজিব হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।