দেওয়ানগঞ্জে পতিত জলাভূমিতে পানিফল চাষ, বাড়তি আয়ে কৃষকের মুখে হাসি

দে
শাহ আলী বাচ্চু
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩
দেওয়ানগঞ্জে পতিত জলাভূমিতে পানিফল চাষ, বাড়তি আয়ে কৃষকের মুখে হাসি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকা নিচু জমি ও বিল এখন কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। যেসব জমিতে বছরের দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় অন্য ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না, সেসব জমিতে পানিফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ চাষে আগ্রহও বাড়ছে।


স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকা অনেক জমি আগে প্রায় পতিতই পড়ে থাকত। বর্তমানে সেসব জমিতে পানিফল চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের হাতে নগদ অর্থের সংকট থাকায় এ সময়ে পানিফল বিক্রির টাকা তাঁদের কাজে আসছে।


বিস্তীর্ণ জলাশয় ও নিচু জমিতে এখন পানিফলের সবুজ পাতার সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কৃষকেরা পানিতে নেমে পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করছেন। পরে ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে এসব ফল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা বেশি থাকলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষেত থেকেও পানিফল কিনে নিচ্ছেন।


পানিতে জন্মানো এ ফল স্থানীয়ভাবে ‘পানিফল’ নামে পরিচিত। দেখতে অনেকটা শিঙাড়ার মতো হওয়ায় অনেকে একে ‘শিঙাড়া ফল’ও বলেন। গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রঙের ফলটির খোসা ছাড়ালে ভেতরে সাদা শাঁস পাওয়া যায়। এটি কাঁচা ও সিদ্ধ—দুইভাবেই খাওয়া যায়। স্থানীয় অনেক মানুষ সিদ্ধ পানিফল সকালের নাশতা হিসেবে খান। পাকা পানিফল সবজি হিসেবেও রান্নায় ব্যবহার করা হয়।


এ ছাড়া পানিফল রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে আটা তৈরি করা যায়। সেই আটা দিয়ে রুটিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। পানিফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।


স্থানীয় কৃষক শহিদুল বলেন, ‘আগে এই জমি পতিত পড়ে থাকত। এখন পানিফল চাষ করে বাড়তি আয় হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে এ চাষ করে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব।’


পানিফল চাষ শুধু কৃষকদের আয়ই বাড়াচ্ছে না, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে। ফল সংগ্রহ, বাছাই, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের কাজে শ্রমিকেরা যুক্ত হচ্ছেন। ফলে মৌসুমে নিম্ন আয়ের মানুষেরও বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেওয়ানগঞ্জের বিস্তীর্ণ জলমগ্ন ও অনাবাদি নিচু জমি পরিকল্পিতভাবে পানিফল চাষের আওতায় আনা গেলে এটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।


দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, যেসব জমি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, সেসব জমিতে পানিফল চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।


কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ এবং উৎপাদিত পানিফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেওয়ানগঞ্জে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে উপজেলার জলমগ্ন ও অনাবাদি নিচু জমি এবং বিলগুলো পানিফল চাষের আওতায় এলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য