বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে, আমার বাবায় জানি কত কষ্ট পাইয়া মরছে’

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৮
বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে, আমার বাবায় জানি কত কষ্ট পাইয়া মরছে’



‘আমার বাবায় পুলিশ অইছিল, আমার বুকটা গর্বে ভইরা গেছিল। হেই বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে। আমার বাবায় জানি কত কষ্ট পাইয়া মরছে।’


ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন পুলিশ কনস্টেবল আলামিনের মা সেলিনা বেগম। চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলামিন।


নিহত আলামিন মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। আলামিন বিবাহিত ছিলেন। তাঁর আড়াই মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।


পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওয়াসা মোড় এলাকায় জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন আলামিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।


এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তিন যুবককে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তাঁদের একজন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে সামনে থেকে আটকাতে মোটরসাইকেল নিয়ে মসজিদের পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে যান আলামিন।


এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বাস তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, বাসটি তাঁকে কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।


সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় আলামিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।


ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাবা আব্দুল হক সরদার জানান, কয়েক দিন আগেই ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন আলামিন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন তিনি।


আব্দুল হক বলেন, সেটিই যে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ ছবি হয়ে থাকবে, তা কখনো ভাবতে পারেননি। সাত সন্তানের মধ্যে আলামিন অত্যন্ত শান্ত ও নম্র স্বভাবের ছিলেন বলেও জানান তিনি।


একমাত্র বোন হালিমাও ভাইকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, ভাই পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর পুরো পরিবার গর্বিত ছিল। এত দ্রুত তাঁকে হারাতে হবে, তা কেউ ভাবেননি।


সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন আলামিনের স্ত্রী ইশরাত জাহান রিয়া। স্বামীকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আড়াই মাসের মেয়েকে নিয়ে কীভাবে জীবন কাটাবেন, তা বুঝতে পারছেন না। তাঁর ছোট্ট মেয়েটি এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে—এই প্রশ্ন করেই বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।


পরিবার জানিয়েছে, সোমবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে আলামিনকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।


মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে নিহত পুলিশ সদস্যের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য