বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার কারণে প্রথম ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছেন প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। শনিবার (২০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে তুরস্কের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঘটে এই বিরল ঘটনা। যদিও ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষদিকে তুরস্কের খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন ৩২ বছর বয়সী আলমিরন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নজরে আনেন মুলদুর। এরপর ভিএআর পর্যালোচনা শেষে রেফারি ইভান বার্টন সরাসরি লাল কার্ড দেখান প্যারাগুয়ের এই তারকাকে।
ঘটনার সময় প্যারাগুয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেলেও তারা সেই ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে প্যারাগুয়ের সামনে।
ঘটনাটি ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবিসি রেডিও ৫ লাইভে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় সাবেক আয়ারল্যান্ড স্ট্রাইকার ক্লিনটন মরিসন বলেন, নিয়ম জানা থাকলে খেলোয়াড়দের এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। অনেকেই হয়তো সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, তবে নিয়ম যদি কার্যকর থাকে, তাহলে সেটি মেনে চলতেই হবে।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখ ঢেকে কথা বলার বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বিশেষ সভায় এই নিয়ম অনুমোদন পায়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, কোনো খেলোয়াড় যদি মুখ ঢেকে কথা বলেন, তাহলে রেফারিরা ধরে নিতে পারেন তিনি এমন কিছু বলছেন যা প্রকাশ্যে বলা উচিত নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টি পুরোপুরি ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচে। সেই ম্যাচে জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। পরে তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ উঠলেও তদন্তে সমকামীবিদ্বেষমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যার তিন ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
এর আগে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও আলোচনায় ছিলেন আলমিরন। সেই ম্যাচে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার টিম রিমকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর পর্যালোচনায় আলমিরনের ডাইভ ধরা পড়ে। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হলুদ কার্ডটি রিমের পরিবর্তে আলমিরনকে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন