দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রতিনিধিরা। উভয় দেশই এই চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
জি-৭ সম্মেলন শেষে ভার্সাই প্রাসাদ-এ আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ম্যাখোঁ বলেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেছেন। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চুক্তির শর্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং উভয় পক্ষ কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা অনুসরণ করবে।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভার্সাইয়ে নথিতে সই সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইরান। সেখানে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামো, সময়সূচি এবং পারস্পরিক দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান আগামী ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এই সময়ে অতিরিক্ত কোনো ফি বা চার্জ আরোপ করবে না।
চুক্তির নথি স্বাক্ষরের পর এখন দুই দেশের হাতে রয়েছে ৬০ দিনের সময়। এই সময়ের মধ্যে তারা বাকি শর্তাবলি চূড়ান্ত করবে এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ১১০ দিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি ফিরিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন