দেশের আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের অধিক সংখ্যক জেলাকে আধুনিক রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রেল মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেবার মান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে দেশের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে দেশের সব জেলাকে রেলসেবার আওতায় নিয়ে আসা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন ১০টি জেলায় রেল সংযোগ স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
চলমান বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-সিলেট রেলপথ উন্নয়ন এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগ প্রকল্প। এছাড়া ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও জানান, টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ অংশকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণের বিষয়েও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কর্ড লাইন বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার দূরত্ব কমে আসবে।
তিনি বলেন, রাজধানীর আশপাশে কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জ-এর সঙ্গে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মানিকগঞ্জে কোনো রেল সংযোগ না থাকায় ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে রেললাইন নির্মাণ, লোকোমোটিভ এবং বগি সংগ্রহ—সবকিছু একটি সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে রেললাইন নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন পরিচালনা শুরু করা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবকাঠামো পড়ে থাকার সুযোগ থাকবে না।
