রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রনেতাদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. নুরুল ইসলাম শহীদ অভিযোগ করেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেছেন এবং নির্ধারিত স্থান থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছেন। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আম্মার।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হল মাঠ-এ আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন নুরুল ইসলাম শহীদ।
বুধবার রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শহীদ অভিযোগ করেন, তিনি নিজের হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পর রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য আহ্বান জানান।
পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে বসেন। তার দাবি, সেখানে বসার কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে স্থানটি ছেড়ে দিতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং ওই এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোর করে দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, তিনি শহীদের গায়ে স্পর্শও করেননি। তার ভাষায়, অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই শহীদকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।
আম্মার বলেন, খেলা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের একপাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা থাকায় স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে পেছনের দর্শকদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি কাউকে ওই স্থানে অবস্থান করতে দিচ্ছিলেন না। শহীদ সেখানে বসার পর অন্য শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল বলে তাকে অন্য পাশে বসার অনুরোধ করা হয়। তবে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করেন বলে দাবি করেন রাকসু জিএস।
এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, দড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছিল। তবে ঘটনার সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। পরিস্থিতি যাতে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট না করে, সে জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
মন্তব্য করুন