পোশাক কারখানায় ভুয়া ট্রেড ইউনিয়নের দৌরাত্মে যেন অসহায় পোশাক কারখানার মালিকরা। একই পোশাক কারখানায় একাধিকবার এমন ট্রেড ইউনিয়ন জমা দিচ্ছেন কথিত শ্রমিক নেতারা। ফলে কমিটির সদস্যরা নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন।
সম্প্রতি এমন একটি ট্রেড ইউনিয়ন জমা দানের খবর পায় এই প্রতিবেদক। খোঁজ নিয়ে মেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ট্রেড ইউনিয়ন জমা হলেও জানেন না স্বয়ং সাভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা দাবি করেছেন, নাম ব্যবহার করে ট্রেড ইউনিয়ন জমা দিয়েছে অসাধু চক্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদেশী মালিকানাধীন এম.কে অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় গত ১৯ এপ্রিল একটি ট্রেড ইউনিয়নের আবেদন জমা হয়। যেখানে সভাপতি হিসাবে দেখানো হয়েছে ওই কারখানার শ্রমিক ফরিদ শেখ এবং সাধারণ সম্পাদক মোছা. লাইজু। তাদের মোবাইল ফোন নম্বর হিসাবে দেখানো হয়েছে কথিত শ্রমিক নেতা আব্দুল মতিন সাগরের। যা শ্রমআইন পরিপন্থী। এছাড়া ইউনিয়নের কার্যালয় দেখানো হয়েছে মাদবর ভিলা। তবে মাদবরবাড়ি ভিলায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে শ্রমিক নেতা আব্দুল মতিন সোহাগের ফেডারেশন অফিস।
বিষয়টি যাচাই করতে কারখানার শ্রমিক ফরিদ শেখ ও মোছা. লাইজু’র সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, ওই কারখানায় কাজ করেন তারা। এরকম ইউনিয়নের আবেদন তো দূরের কথা, ইউনিয়ন সম্পর্কেই তাদের ধারণা নেই। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে অন্য কেউ তাদের নাম ব্যবহার করেছে।
এব্যাপারে কথিত শ্রমিক নেতা আব্দুল মতিন সাগর বলেন, তিনি এমকে অ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানায় মাঝে মধ্যে কাজ করেন। ভূয়া ট্রেড ইউনিয়ন জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা বলবো। শ্রম আইনে এমন ট্রেড ইউনিয়ন জমা দেওয়া বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফোন বন্ধ করে দেন।
জানতে চাইলে শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, এধরনের ট্রেড ইউনিয়ন অনুমোদনের আগে যাচাই-বাছাই করা হয়। ভুয়া ট্রেড ইউনিয়ন জমা হলে সেটির অনুমোদ দেওয়া হয় না। তবে অনুমোদন না দিলে কথিত শ্রমিক নেতারা মব সৃষ্টি করেন।
মন্তব্য করুন