পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে মিনি স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে মেডিকেল ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সদস্যদের অংশগ্রহণে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশার মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,স্কয়ার কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ আব্দুল মালেক,একমি ল্যাবরেটরি লিমিটেডের অহেদুল ইসলাম,অপসোনিনের হাফিজ উদ্দিন,এডোড়ার রাসেল মিয়া, একমি’র মোসলেম উদ্দিন, পপুলারের হাসান আলী প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভগণ দালাল নয়,এদেশের উচ্চশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী। গত ৪ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজে দালাল বিরোধী অভিযানের নামে অর্ধশত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের আটক করা হয়েছে। এ আটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।তারা আরো বলেন,আমরা দেশের স্বাস্থ্যখাতে কাজ করি। দেশে উৎপাদিত ঔষধ সম্পর্কে, সেই ঔষধু সেবনের বিধিনিষেধ চিকিৎসকদের অবগত করি। হাসপাতালে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সাথে কোনোভাবেই আমাদের কেউ সম্পৃক্ত নয়। তবুও আমাদের শুনতে হয়, আমরা দালাল।
হাসপাতালে কোন রোগীর সাথে, কোন চিকিৎসকের সাথে আমরা প্রতারণা করেছি, এটি কেউ বলতে পারবে না। কাজেই যেই সেক্টরটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেই ফার্মা সেক্টরে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা তৈরি করে দিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যাতে কাজের নিরাপদ পরিবেশ সুনিশ্চিত এবং আমাদের মর্যাদা নিশ্চিত হয়। এই সেক্টরকে বাঁচাতে হলে এ নীতিমালা খুবই জরুরি। এছাড়াও বক্তাগণ ৬দফা দাবি তুলে ধরে আরো বলেন,সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টা কর্ম দিবস নিশ্চিত করণসহ ছুটির দিনে ওভারটাইম কাজ করলে ওভার টাইম দিতে হবে। চাকরীর বয়সের সাথে সাথে গ্রাচুয়িটি শতকরা হারে বাড়াতে হবে। টিএ /ডিএ বিল প্রতিবছর বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বৃদ্ধি করতে হবে।
বেসিক স্যালারির মোট স্যালারির ন্যূনতম ৬০% করতে হবে। চাকুরীর বয়স ৫বছর হলে ইমপ্লয়ের জন্য স্যালারি থেকে টাকা না কেটে মোটরসাইকেল/কার যানবাহন ফ্রি করে দিতে হবে। যেকোনো ইমপ্লয়িকে কোন কারনে চাকরিচ্যুত করলে শুধু ক্ষতিপূরণ বাবদ কোম্পানিকে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য থাকিবে। তারা এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এসব দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন বক্তাগণ।
মন্তব্য করুন