সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২৭তম বারের মতো পেছানো হলো।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেননি। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের সাব-ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে মামলাটির তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হলে একই বছরের ১৮ এপ্রিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে তদন্ত চললেও মামলাটির রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। এ অবস্থায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকোর্ট মামলার তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং র্যাবকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে।
দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছানোয় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মন্তব্য করুন