দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-এ আয়োজিত জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সিলেট অঞ্চলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চা-শ্রমিক পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে সবাইকে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব না হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ নারী চা-শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের আগে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা মানুষের জন্য কাজ করবে এবং দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবাইকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করবে। সেই লক্ষ্য থেকেই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তারেক রহমান জানান, দেশে প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আসতে পারেন।
নতুন বাজেটের বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরে ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। একই সময়ে ৪০ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ডও পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সম্মানভাতা ও সহায়তা কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে ব্যাপক বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে গ্রামীণ জনগণ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।
বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাজেটে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে আখ্যা দেয় তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।
তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, সংসদের ভেতরে বা বাইরে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। দেশের উন্নয়নবিরোধী শক্তি সুযোগ পেলে সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের ইতিহাসে যখনই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, তখনই জনগণ ধানের শীষের প্রতি আস্থা রেখেছে। তিনি মৌলভীবাজার অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান-এর অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের শক্তিকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সচেতন থাকলে দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করা সম্ভব হবে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকদের জন্য দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। উপকারভোগী নারী চা-শ্রমিক ওয়াজেদা বেগম ও শিউলি রানী দাস সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন