ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মহামারি ও সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে নতুন বাজেটেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এ আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, বাজেটে মহামারি ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, শুধু চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশে নার্স ও মিডওয়াইফের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যমান জনবল পরিস্থিতি বিবেচনায় নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা অন্তত ৩ থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় বৈষম্য বিদ্যমান। প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ এখনও এমন অবস্থানে পৌঁছায়নি যে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। আগে দেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো এবং শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। সরকারের নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও সক্ষম হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন