কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ



নেত্রকোনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিসে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে গ্রাম্য সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।


অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে রিপন মিয়াকে মেয়েটির বাড়ির পেছনে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা দেখতে পান বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিস বসে। সালিসে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।


সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানার টাকা পরিশোধ এবং গ্রাম ছাড়ার জন্য তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে রিপনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন।


রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার জানান, তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছেন। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তাকে অন্যায়ভাবে জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।


সালিসে উপস্থিত সুজন মিয়া জানান, অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে সালিস চলাকালে রিপন মিয়া উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পা ধরে ক্ষমা চান। পরে সালিসে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।


ভুক্তভোগীর মা জানান, তার মেয়ে বর্তমানে এলাকার বাইরে রয়েছে। প্রথমে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে ঘটনার কথা জানায়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে সালিসের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয়েছে এবং থানায় মামলা করার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।


নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা গ্রাম্য দরবারে টাকার বিনিময়ে নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য