কক্সবাজারের মাতামুহুরি, সাঙ্গু ও তৈন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাঁশ সম্পদ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ বাঁশ অবৈধভাবে উত্তোলন করে নদীপথে পাচার করা হচ্ছে, যা বন বিভাগের নজরদারির বাইরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ হাজার বাঁশ রিজার্ভ এলাকা থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বাঁশ নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে পাচার করা হয়। এতে করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার—এমন দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি মাসোহারা গ্রহণ করে তদারকি করছেন। ফলে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত এসব এলাকায় নির্বিচারে বাঁশ কাটার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, পৌরসভার গজালিয়া স্টেশন এলাকায় মাতামুহুরি নদীর তীরে একটি ভাড়া অফিস থেকে বাঁশ উত্তোলন ও চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় পরিচালিত ওই অফিসে অবৈধ লেনদেন সংঘটিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে—বাঁশ পাচার সিন্ডিকেটে ডিপু মোস্তাফিজুর রহমান, বিট অফিসার আলতাফ এবং ক্যাশিয়ার সামসুরের নাম। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিসার ও বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) লামা বলেন, “কাগজপত্র ছাড়া বাঁশ পাচারের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে বমু বিট অফিসার আলতাফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কবির আহাম্মদ জানান, গত সাত দিনে কোনো ধরনের ট্রানজিট পারমিট (টিপি) ইস্যু করা হয়নি।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে নদীপথে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাঁশ পাচার করা হচ্ছে, যা সরেজমিনে যাচাই করা কঠিন। এছাড়া লামামুখ সরকারি বন বিট কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন