‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’, বরখাস্তের পর প্রধান কোচের বিস্ফোরক দাবি

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯
‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’, বরখাস্তের পর প্রধান কোচের বিস্ফোরক দাবি


বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব হারানোর চার দিন পর বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জেরার্ড জোনস। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন তিনি।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জোনস।


এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। সিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পরদিন, ৪ সেপ্টেম্বর জোনসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।


জোনস তাঁর পোস্টে বলেন, মাঠের পারফরম্যান্স কিংবা ফুটবলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং হত্যার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে উদ্দেশ করে বেশ কিছু আপত্তিকর বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।


বাফুফের পক্ষ থেকে জোনসকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।


তবে বাফুফের একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, ফলাফল বিপর্যয়ের পাশাপাশি গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে জোনসের একটি অপ্রীতিকর ঘটনাও দায়িত্ব হারানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।


বাংলাদেশে নিজের কাজের সময়কে শুধু ম্যাচের ফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে চান না জোনস। তাঁর দাবি, যুব খেলোয়াড়দের উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল তাঁর।


কিন্তু এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে প্রায় নয় সপ্তাহ কাজ করার পরই তাঁকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে খেলতে হয়।


জোনসের মতে, সীমিত প্রস্তুতি নিয়ে এমন দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে, যাদের খেলোয়াড় তৈরির কাঠামো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত।


অনুশীলনে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট ছিলেন এই কোচ। তাঁর দাবি, বল দখল, আক্রমণে বৈচিত্র্য, প্রতিপক্ষের বক্সে প্রবেশ, হাই প্রেসিং ও কাউন্টার প্রেসিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে অনুশীলনে দল উন্নতি করছিল।


তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অনুশীলনের সেই পরিকল্পনা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে অনুশীলনে তৈরি করা কৌশল ও ম্যাচের পারফরম্যান্সের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয় বলে মনে করেন তিনি।


প্রায় দুই দশকের কোচিং অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জোনস বলেন, মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফল দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশে করা কাজের মূল্যায়ন করা উচিত নয়।


বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো নিয়েও নিজের মত দিয়েছেন সাবেক এই কোচ। তাঁর মতে, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি এবং উচ্চমানের খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।


তবে বাংলাদেশের ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই বলেও মন্তব্য করেছেন জোনস। তাঁর বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ফুটবলারদের প্রতিভাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য