খাবারের জন্য পার্টিতে নাচতেন, ফুটপাতেও ঘুমিয়েছেন মিঠুন

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৩
খাবারের জন্য পার্টিতে নাচতেন, ফুটপাতেও ঘুমিয়েছেন মিঠুন


আজ তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। অথচ অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে একবেলা খাবারের জন্য পার্টিতে নাচতে হতো মিঠুন চক্রবর্তীকে। কখনো রাত কাটাতে হয়েছে রাস্তা কিংবা ফুটপাতেও।


সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগে অতিথি হয়ে জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন মিঠুন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


ফারাহ জানান, তাঁর চাচা কে কে শুক্লা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন। সেই সূত্রে মিঠুনের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় ছিল। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে ভালো নাচতে পারতেন বলে বিভিন্ন পার্টিতে মিঠুনকে ডাকা হতো। সেখানে নাচের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না তিনি, শুধু খাবার খাওয়ার সুযোগ পেতেন।


ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পার্টি থেকে পাওয়া খাবার বাড়িতেও নিয়ে যেতেন মিঠুন। তাঁর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সাধারণ অর্থে সংগ্রাম বলার চেয়েও অনেক কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন ফারাহ।


নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে মিঠুন জানান, তাঁর জীবনের সেই অধ্যায় ছিল ‘সংগ্রামেরও বাইরে’। কখনো দীর্ঘ সময় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতেই ঘুমিয়ে পড়তেন। ঘুম ভেঙে দেখতেন, তিনি সেখানেই পড়ে আছেন। কয়েকবার বাগানেও রাত কাটাতে হয়েছে তাঁকে।


ফারাহ বলেন, জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে মিঠুনের মতো বড় তারকা হয়ে ওঠার উদাহরণ খুব বেশি নেই।


মিঠুন চক্রবর্তীর আসল নাম গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেন পরিচালিত ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়ে অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমাতেই অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান তিনি।


পরে ‘সুরক্ষা’ সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে মিঠুনের। আশির দশকে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি’ ও ‘কমান্ডো’র মতো চলচ্চিত্র তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।


চার দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে হিন্দি, বাংলা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ৩৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন মিঠুন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।


তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন এই অভিনেতা। ২০২৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মাননা দেয়। একই বছর ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।


সাফল্য ও সম্মাননায় ভরা দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আড়ালে থাকা অনিশ্চয়তা আর অভাবের দিনগুলোর কথা ফারাহ খানের ভ্লগে নতুন করে সামনে আনলেন মিঠুন।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য