ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, এবার এথেন্সের কাছেও আগুন

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩০
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, এবার এথেন্সের কাছেও আগুন

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে ইউরোপজুড়ে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের আশপাশেও বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানোর পাশাপাশি হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


শনিবার গ্রিসের বিভিন্ন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ অ্যাটিকা ও এভিয়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। এথেন্স থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বোয়োতিয়া অঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী, ৯২টি ফায়ার ট্রাক, ভারী যন্ত্রপাতি এবং বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।


দাবানলের কারণে আগিওস ভ্যাসিলিওস এলাকার ২০০ জনের বেশি বাসিন্দাকে সমুদ্রপথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পোর্তো জারমেনো সৈকত এলাকা থেকে আরও ১২ জনকে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। আর্গোলিদা ও আর্তা অঞ্চলেও রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দমকল বাহিনী।


অন্যদিকে, স্পেনের উত্তরাঞ্চলের লিওন প্রদেশে নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে আরেকটি আগুন সক্রিয় থাকলেও তৃতীয় একটি দাবানল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


পার্শ্ববর্তী জামোরা প্রদেশে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরিয়ে নেওয়া ১৪টি শহরের বাসিন্দাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের কাস্তেলন প্রদেশের ভাল দ’উইক্সো এলাকায় সাত দিন ধরে চলা দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি পৃথক স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে তদন্ত করছে পুলিশ।


মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চলেও বড় দাবানলে ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। যদিও আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।


তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপজুড়ে বাড়ছে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যাও। অস্ট্রিয়ায় জুন মাসে অতিরিক্ত গরমে রেকর্ড ৩৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে চলতি বছর এখন পর্যন্ত তাপজনিত কারণে আনুমানিক ২ হাজার ৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সে ১৭ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৭৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানির জনস্বাস্থ্য সংস্থা আরকেআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর উচ্চ তাপমাত্রাসংশ্লিষ্ট কারণে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।


চরম তাপদাহ ইউরোপের জ্বালানি ও নৌপরিবহন খাতেও প্রভাব ফেলেছে। দানিউব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার্বিয়ার জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। একই কারণে হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও রোমানিয়ায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাহাজগুলোকে কম মালামাল নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।


রোমানিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় দুটি রিঅ্যাক্টরের একটি বন্ধ করেছে। দ্বিতীয়টিও বন্ধ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য