বরিশালের উজিরপুরে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে অবহেলিত একটি সড়কে ইট সলিং হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। বর্ষা এলেই কাদা, জলাবদ্ধতা ও চলাচলের দুর্ভোগে পড়তে হতো স্থানীয়দের। পাশাপাশি পুরোনো মন্দিরে পূজা দিতে আসা ভক্ত ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদেরও পোহাতে হতো ভোগান্তি।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কথা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উজিরপুর উপজেলা আহ্বায়ক পলাশ কুণ্ড। তার উদ্যোগে ইতোমধ্যে সড়কটিতে ইট সলিং করা হয়েছে।
পলাশ কুণ্ড জানান, শোলক ইউনিয়নের যুবসমাজের কয়েকজন তার কাছে গিয়ে স্থানীয় একটি মাঠের সমস্যার কথা জানান। তাদের উদ্যোগে তিনি সেখানে গিয়ে বালু ভরাটের কাজ করেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে এলাকার প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো একটি মন্দির এবং মন্দিরে যাতায়াতের সড়কের দুরবস্থার কথা জানান।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সামনে দুর্গাপূজা। মন্দিরে পূজা দিতে আসা মানুষজনের পাশাপাশি এলাকার স্কুল, হাইস্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে বর্ষা মৌসুমে তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। তাই সড়কটি সংস্কারের জন্য তার সহযোগিতা চান তারা।
পলাশ কুণ্ড বলেন, স্থানীয়দের অনুরোধের পর তিনি সরেজমিনে এসে সড়কটির বাস্তব অবস্থা দেখেন। রাস্তার দুরবস্থা দেখে তিনি ইট সলিংয়ের উদ্যোগ নেন। মানুষের প্রয়োজনের জায়গা থেকে এ ধরনের একটি কাজ করতে পেরে তিনি নিজেও আনন্দিত বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, মানুষের উপকারে আসতে পারা এবং দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারা তার কাছে আনন্দের বিষয়। স্থানীয়দের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
এদিকে সড়কটিতে ইট সলিং হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি কাদামাটি ও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মন্দিরে যাতায়াতকারী ভক্ত, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যেত। এখন ইট সলিং হওয়ায় সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়কটির এই উন্নয়ন যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উন্নয়ন করা হয়। দীর্ঘদিন পর চলাচলের উপযোগী একটি রাস্তা পাওয়ায় উদ্যোগটির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার পর ইট সলিং হওয়া ছোট এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর কাছে শুধু একটি চলাচলের পথ নয়—দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে স্বস্তিরও একটি নতুন পথ।