বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগ বা দেশের বাইরে কোনো সম্পদ কেনার প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া লাইভে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিদেশে তিনি এক টাকা বিনিয়োগ করেছেন কিংবা দেশের বাইরে সামান্য কোনো সম্পদ কিনেছেন—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে সেদিনই তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
নিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন সাবেক এই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। আসিফ জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, তার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর অঙ্ক ‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের ১১ ফেব্রুয়ারির পোস্টের সঙ্গে মিলে যায়।
ওই ফেসবুক পেজকে আওয়ামী লীগের ‘প্রচারপেজ’ আখ্যা দিয়ে আসিফ প্রশ্ন করেন, ‘আজকের কণ্ঠ’ দুদক পরিচালনা করে, নাকি দুদক ‘আজকের কণ্ঠ’ পরিচালনা করে—এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আসিফ। তিনি বলেন, প্রকল্পের শুরুতে প্রায় ১৫০টি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়।
তার দাবি, প্রকল্পের আওতা বাড়ার পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, প্যাভিলিয়ন, দর্শকদের বসার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। সংশোধিত প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে এবং বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন বলেও জানান তিনি।
প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকলে সেটির কাজ বন্ধ করে তদন্ত করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।
সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফ। তার অভিযোগ, সেই রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই বর্তমান তদন্তকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
দুদকের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের একটি অংশের সমালোচনা করেন আসিফ। তিনি বলেন, এ ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তার আশঙ্কা, দুদকের তদন্তে কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ততদিনে তার যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যাবে।
এ সময় তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নে বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগও নাকচ করেন আসিফ। তিনি দাবি করেন, তার মাত্র একজন বোনজামাই রয়েছেন এবং তার ভাগ্নের বয়স এখনো প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর।
আসিফ বলেন, অর্থ পাচারের অভিযোগে একটি শিশুকেও টেনে আনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সবশেষে কোনো অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার আহ্বান জানান তিনি। শুধু আকর্ষণীয় বা ‘ক্লিকবেইট’ শিরোনামের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধও করেন এনসিপির মুখপাত্র।