পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪
পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান


সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডারে কমিশন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তসংক্রান্ত একটি নথিতে এসব অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করে আসিফ মাহমুদ পর্তুগালে জমি কিনেছেন, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রেখেছেন।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নের মাধ্যমেও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহার এবং হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগও রয়েছে।

নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

অভিযোগে বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম

অভিযোগকারীর দাবি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।

স্বজন ও কর্মকর্তাদের নিয়েও অভিযোগ

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং তার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য