সিলেটের বিশ্বনাথে নিজ বাসায় ঢুকে এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্বনাথ পৌর শহরের টিএনটি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তি আবদুল মজিদ বকুল বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আর অভিযুক্ত শামীম আহমদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সহসভাপতি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, শামীম আহমদ তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে পোস্ট দেন। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বকুল পাল্টা মন্তব্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বকুলের বাসায় গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
আহত বকুলকে প্রথমে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, হামলার পর শামীম আহমদ বিশ্বনাথ উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসায় গিয়ে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে শামীম সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনার পর হাবিবুর রহমান হাবিবকে পুলিশ আটক করেছে বলে স্থানীয়ভাবে খবর ছড়ালেও বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে ওসি বলেন, ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনা পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, হাবিবুর রহমান হাবিবকে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনায় আটক করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি নিয়মিত মামলা ছিল। ওই মামলায় বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বকুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল। কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
পথসভা থেকে ছাত্রদল নেতারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম আহমদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা অভিযোগ করে বলেন, শামীম আহমদের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করার কারণে তিনি বকুলের বাসায় গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। পরে আশপাশের নেতাকর্মীরা বকুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় শামীমকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।