ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা চলছে: চিফ হুইপ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬
ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা চলছে: চিফ হুইপ



ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, এসব চুক্তি পর্যালোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জানানো হবে।


শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপও উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।


চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তির আওতায় বিদেশি জাহাজ চলাচল এবং ওই চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ হুইপ বলেন, ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকই পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই ফলাফল পাওয়া যাবে।


চিফ হুইপ জানান, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন মোট নয় কার্যদিবস চলেছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে। বিভিন্ন বিধিতে সংসদ সদস্যদের করা ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।


তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে সংসদের অধিবেশন বসার ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী অধিবেশনও একই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হবে।


ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ১৮(ক) ধারা সংযোজন এবং পরে সেটি বাদ দিয়ে বিল পাসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নূরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আলাদাভাবে দেখলে হবে না। সরকার দেশের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চেয়েছিল বলেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ না থাকায় সেটি বাতিল করা হয়েছে।


সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতে বিরোধী দলের সদস্য রয়েছেন। সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


নূরুল ইসলাম বলেন, ২২টি স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে রয়েছেন দুজন করে। অতীতে বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুব বেশি নেই। তবে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের জবাবদিহির ক্ষেত্রে এই কমিটিকে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। তাঁর ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় বাবা-মা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।


বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনীর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর বাবা-মা অবহেলার শিকার হন বা বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে তাঁদের জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।


জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার-সংক্রান্ত বিল পাসের বিষয়েও কথা বলেন নূরুল ইসলাম। তিনি জানান, এসব বিল চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন অংশীজন, আইনজীবী, বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। ১৬ জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশে শাস্তির যে সীমা ছিল, পাস হওয়া বিলে তা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।


ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এটি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া আমন্ত্রণ নয়।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বেশি সংশ্লিষ্ট, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের যথাযথ মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।


আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ দাবি করেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ গত পাঁচ মাসে পরিশোধ করেছে বর্তমান সরকার। তাঁর মতে, এই অর্থ জনগণের করের টাকা। তাই সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের একটি টাকাও অপচয় না করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে উৎপাদনে আনতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় প্রয়োজন। ফলে চাইলেই অল্প সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।


বিদ্যুৎ খাতে আগের সরকারের বিভিন্ন চুক্তি ও দায়মুক্তির বিধানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কিছু কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বর্তমান সরকার ওই দায়মুক্তির বিধান বাতিল করেছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তে সরাসরি সরকারকে ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন তিনি।


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। সনদের পুরোটা বাস্তবায়ন করা হবে।


তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এটি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তাই সরকার সনদটি শতভাগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


চিফ হুইপের ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংস্কার বাস্তবায়নের অন্য কোনো পথ নেই। বিরোধীদের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন হলে তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতেই হবে।


বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে এতে সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতেও বহুবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য