কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০
কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং



কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং আরও বেড়েছে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ কিছুটা বাড়লে কেন্দ্রটি দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।


বৃহস্পতিবার রাতে উৎপাদন আরও বেড়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।


আদানির কেন্দ্রের উৎপাদন কমতে পারে কয়েক দিন


আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির একটি বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ত্রুটির পর বয়লারটি ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।


ফলে কেন্দ্রটিতে আবার উৎপাদন বাড়াতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য আদানির সঙ্গে চুক্তি করে পিডিবি। চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।


দেশে বিদ্যুৎ সংকটের চাপ বাড়ছে


আদানির কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রেও জ্বালানি ও কারিগরি সংকট রয়েছে। পিডিবি সূত্র অনুযায়ী, দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহে সংকট চলছে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে।


অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লার ঘাটতি ও কারিগরি সমস্যার কারণে পায়রা, রামপালসহ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।


জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি সামাল দেওয়ারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে লোডশেডিংও বেড়ে যাচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে। গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের কারণে দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবগুলো নিয়মিত পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য