নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালের রাসুয়া জেলার পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরোং এলাকাও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ভোতেকোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে নদীতীরবর্তী গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে সীমান্তের চীনা অংশে একটি বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মানুষ নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করার মধ্যেই অল্প সময়ের মধ্যে কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত এলাকায় আছড়ে পড়ে।
নেপালের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় শত শত পর্যটকসহ অন্তত ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ১২ জন ব্রিটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।
দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি ভূমিকম্পের পর বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
রাসুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, অতিরিক্ত পানির প্রবাহ ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় হেলিকপ্টারও অবতরণ করতে পারেনি।
চীনের গিরোং সীমান্ত বন্দরও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সেখানে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে। একই সঙ্গে নদীর উজানে সৃষ্ট বাধা থেকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।