শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯
শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত



সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের আয়োজনটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ। এর সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। এ সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, সীমান্ত এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।


বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের আয়োজনে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা নেই। অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা মতামতের দায়ও ভারত সরকার নেবে না এবং এসব বক্তব্যকে সরকারের সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


এর আগে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শেখ হাসিনা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় মুখপাত্র বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের যে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্বের ভিত্তিতে আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। এটি ব্রিকসের নিয়মিত বৈশ্বিক কাঠামোর অংশ বলেও জানান তিনি।


বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গা চুক্তিসহ পানিসম্পদসংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা যৌথ নদী কমিশন এবং দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক ও কারিগরি কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া হবে।


এদিকে, মঙ্গলবার সকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এর আগেও গণমাধ্যমকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করলে তা আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল হবে।


তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তা মেনে চলা দায়িত্ব। তবে কেউ ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হলে আদালতে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য