নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের বড় অংশই ভারতীয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতে কাদাধসের ঘটনায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এত পর্যটক কেন ছিলেন?
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত এই অঞ্চলটি ধর্মীয় ও পর্যটন—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদ এ অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ।
এর একটি তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে অবস্থিত মানস সরোবর। অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার বিখ্যাত গোসাইকুণ্ড হ্রদ।
প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। একই সময়ে অনেকে গোসাইকুণ্ডেও তীর্থযাত্রায় যান।
বিশেষ করে বছরের এই সময়ে ভারতীয় পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি থাকে। অনেকে মানস সরোবর ভ্রমণের পাশাপাশি গোসাইকুণ্ডে পবিত্র স্নান করতে আসেন।
এ ছাড়া পূর্ণিমার সময়কে অনেক তীর্থযাত্রী শুভ মনে করেন। ফলে পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে এ সময় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
আলপাইন কৈলাস ট্রেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পাণ্ডিত বলেন, এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন রুট। পূর্ণিমার সময়কে শুভ মনে করায় অনেক পর্যটক সাধারণত এ সময়েই এখানে ভ্রমণে আসেন।
ফলে ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট এবং মৌসুমি পর্যটনের কারণে দুর্যোগের সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন।