বর্তমান সরকার বেহেশতের গ্যারান্টি নয়, উন্নয়নের গ্যারান্টি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতেও ধাপে ধাপে কাজ করা হচ্ছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ত্রিমোহনী খাল ব্রিজ এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জিরানী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা মহানগরী নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একদিনে দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার দিতে চায় না। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে নগরীর উন্নয়ন করতে চায়।
নগর উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
খাল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মীর শাহে আলম জানান, ডিএসসিসির ২৬টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে খালের পাড়ে অবৈধ দখল প্রতিরোধের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকার পয়োবর্জ্য শোধনাগারের মাধ্যমে পরিশোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ জিরানী খালটি কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২২ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসি বহন করবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া খালের পাড়ে সবুজায়ন, পরিবেশদূষণ রোধে আটটি বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে খালের সীমানা নির্ধারণ, দখল উচ্ছেদ, অচল কালভার্ট অপসারণ ও জমির স্বল্পতাকে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবও উপস্থিত ছিলেন।