‘চায়ের নামে খাওয়াচ্ছে গোমূত্র’—উত্তরায় দাঁড়িয়ে চীনা নাগরিকের চাঞ্চল্যকর লাইভ

দে
এলেন বিশ্বাস
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮
‘চায়ের নামে খাওয়াচ্ছে গোমূত্র’—উত্তরায় দাঁড়িয়ে চীনা নাগরিকের চাঞ্চল্যকর লাইভ

রাজধানীর উত্তরায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদেশি নাগরিকদের একটি অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এবং সংলগ্ন টেকপাড়া এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে দেড় শতাধিক চীনা নাগরিক দুই হাতে একাধিক ফোন নিয়ে লাইভ ভিডিও ধারণ করছেন। একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতবাড়িতে ঢুকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে চীনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আপত্তিকর, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।


চীনা নাগরিকেরা লাইভ ভিডিও করার সময় অনবরত চায়নিজ ভাষায় কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ভাষা না বোঝায় দীর্ঘদিন এই ভিডিওগুলোর মূল বিষয়বস্তু জানতে পারেননি। 

পরবর্তীতে চীনা ভাষা জানা কয়েকজন বাংলাদেশি অনুবাদকের সহায়তায় গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে তাঁদের লাইভ ভিডিওর অনুবাদ বিশ্লেষণ করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে ভৌগোলিক বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড় ও টেকপাড়ায় দাঁড়িয়ে লাইভ ভিডিও করলেও চীনা প্রবাসীরা তাঁদের দর্শকদের বলছেন যে তাঁরা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।


টেকপাড়ার এক চায়ের দোকানে লাইভ ভিডিও করার সময় ওয়াং ওয়েই নামের এক চীনা নাগরিক দর্শকদের উদ্দেশে বলেন:এই যে তাঁরা চা পান করছেন, জানেন কি এটা কিসের চা? এটা হলো গোমূত্রের চা। তাঁরা গোমূত্রের চা খাচ্ছেন। আর ওই দোকানে যে চা খাচ্ছেন, সেটি নদীর নোংরা পানি দিয়ে বানানো। এদের জীবনযাপন খুবই নোংরা।


 উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড়ে দাঁড়িয়ে টেকপাড়ার অনগ্রসর টিনের ঘরবাড়ি দেখিয়ে মিয়ানমিয়ান নামের এক চীনা নারী লাইভে বলেন:এটা হলো নয়াদিল্লি। এদের ঘর খুবই নোংরা। টিনের ঘরের মধ্যে একটি ফ্যান পর্যন্ত নেই। জায়গাটি বেশ অনগ্রসর, নোংরা-অপরিচ্ছন্ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ।


এমনকি এখানকার মানুষের শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়েও তিনি আপত্তিকর ভাষায় বিবরণ দিতে থাকেন।


কেন এই আয়োজন? কন্টেন্ট বাণিজ্যের নেপথ্যে

অঞ্চলটিতে চীনা প্রবাসীদের গাইড হিসেবে কর্মরত রিতু আক্তার নামের এক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব চীনা নাগরিক মূলত আর্থিক লাভের আশায় এই বিতর্কিত পথ বেছে নিয়েছেন। রিতু আক্তার জানান,আমি মূলত চীনা নাগরিকদের গাইড হিসেবে কাজ করি, বিনিময়ে দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে পাই। চীনা নাগরিকেরা এই ভিডিও চীনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাট, ডুয়িনসহ (টিকটক) বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে আয় করেন। বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করে এমন এলাকা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ বেশি, তাই তাঁরা এই এলাকাটি বেছে নিয়েছেন।


গুগল ট্রান্সলেটরের সহায়তায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফ্যাংইয়ো নামের এক চীনা নাগরিক জানান:পণ্যের প্রচারণার অংশ হিসেবে আমরা উইচ্যাট নামের একটি চাইনিজ প্ল্যাটফর্মে এসব লাইভ ভিডিও করি।


তবে কেন তাঁরা নির্দিষ্ট এই এলাকাটি বেছে নিয়েছেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগাতার ভিডিও করছেন সে বিষয়ে ফ্যাংইয়ো আর কথা বলতে রাজি হননি।



সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম ক্যামেরার নজরদারিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাধারণ জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তরার টেকপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

"দু এক দিনের ব্যাপার হলে হয়, কিন্তু এরা মাসের পর মাস এমন ভিডিও করে। আমরা ঘুম থেকে ওঠার আগে তারা ভিডিও করা শুরু করে। ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও দেখি তারা ভিডিও করে। কিন্তু ভিডিওগুলো নিয়ে তারা কী করে, আমরা কিছুই জানি না।


একই এলাকার বাসিন্দা রোজিনা খাতুন বসতঘরে অনুপ্রবেশ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন:তারা মাঝেমধ্যে ঘরের মধ্যে ঢুকে ভিডিও শুরু করে। বাসার মধ্যে সব সময় তো জামাকাপড় ঠিকঠাক থাকে না। হঠাৎ করে বাসার মধ্যে ঢুকে ভিডিও করা শুরু করলে কেমন লাগে বলেন?


গোপনীয়তা ভঙ্গের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা পাপিয়া বেগম বলেন:

ভিডিও করতে করতে বাথরুমেও ঢুকে পড়ে অনেকে। তাদের কিছু বললেও বোঝে না। হাসে আর স্যরি বলে চলে যায়। সারা দিনই তাদের এমন টালবাহানা চলতে থাকে। কেউ কোনো ব্যবস্থাও নেয় না। তাদের কিছু বললে চলে যায়, আবার আসে।



মাসের পর মাস ধরে প্রবাসীদের এমন অনিয়ন্ত্রিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লাইভ ভিডিও কার্যক্রম চললেও স্থানীয় থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর এ বিষয়ে জানান:

তারা কেন ভিডিও করে, সেটা আসলে আমি জানি না। ভিডিওগুলো কোথায় পাবলিশ করে, সেটাও জানি না। তবে তারা যে ভিডিও করে, সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য