প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় মানববন্ধন শ্রীপুরে শতাধিক পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্ঠা ভূমি দস্যু চক্রের

দে
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫০
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় মানববন্ধন শ্রীপুরে শতাধিক পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্ঠা ভূমি দস্যু চক্রের

​গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেতজুরী গ্রামে শত বছর ধরে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে।


শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীপুর পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের বেতজুরী গ্রামের ভুক্তভোগী শতাধিক পরিবারের প্রায় হাজারেরও অধিক নারী পুরুষ শিক্ষার্থীরা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাড়িবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে এ মানববন্দনে অংশ নেন।

 মামলা-হামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে এবং বসতভিটা রক্ষার আকুল আকুতি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানান,ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।


​মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, "আমরা এই গ্রামে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ বিএনপি পরিবারের সদস্য হলেও ভূমিদস্যুদের লালসার শিকার হয়ে আজ ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শত বছর ধরে এই ভিটেমাটিতে বসবাস করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরাও এখানে বাস করছি। এই মাটির সঙ্গে শুধু আমাদের বসতবাড়ির সম্পর্ক নয়; জড়িয়ে রয়েছে পূর্বপুরুষের স্মৃতি, কবরস্থান, সমাজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, জীবন-জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একমাত্র আশ্রয়স্থল।"


​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির বৈধ মালিকানা ও দখলের পক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী মহল বেআইনিভাবে তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। সাবেক এরশাদ সরকারের আমলে কর্নেল (অব.) রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে কিছু জমি বন্দোবস্ত নেন। কিন্তু তার বরাদ্দকৃত জমিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ও তার স্বার্থান্বেষী মহল অশুভ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারের তৈরি নকশা (স্কেচ ম্যাপ) পরিবর্তন করে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে স্থানীয়দের বসতবাড়ির জমি গ্রাস করার পরিকল্পনা করে।


​শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি ১৫-১৬টি গাড়ি ও শতাধিক লোক নিয়ে এসে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।


​ভুক্তভোগীরা জানান, সংসদ সদস্য রনি স্থানীয় নারী-পুরুষদের ডেকে নিয়ে দাবি করেন যে, তিনি কর্নেল রেজাউল করিমের ওয়ারিশদের কাছ থেকে এই জমি কিনে নিয়েছেন এবং দ্রুত জমি খালি করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারের ছয়-সাতজন প্রতিনিধিকে গুলশানের বাসায় ডেকে নিয়েও ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জমি ছেড়ে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে তার ক্যাডার বাহিনী ও অনুসারীরা প্রতিনিয়ত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে।


​অভিযোগে আরও বলা হয়, এমপি রনির ফুফাতো ভাই ওমর ফারুককে কর্নেল রেজাউল করিমের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে 'আম-মোক্তার' (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) বানিয়ে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কখনো গাজীপুর ডিবি অফিসে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে, আবার কখনো আদালতে একাধিক মামলা ঠুকে দিয়ে পরিবারগুলোকে চূড়ান্ত হয়রানি করা হচ্ছে।


​এ অবস্থায় নিজেদের শত বছরের পৈতৃক ভিটেমাটিতে শান্তিতে বসবাস করা এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শতাধিক পরিবারের সদস্যরা।

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য