পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরের কাছে সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনিতে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এখনও আরও দুই শ্রমিকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কোয়েটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি বেসরকারি কয়লাখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে খনির ভেতরে আগুন ধরে যায় এবং এর একটি অংশ ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের প্রভাব পাশের আরেকটি কয়লাখনিতেও ছড়িয়ে পড়ে।
বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মোহাম্মদ আতিফ জানান, বিস্ফোরণের সময় দুটি খনিতে মোট ৩৪ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখন পর্যন্ত দুই খনি থেকে ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণ হওয়া খনিটিতে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে এবং সেখানে আটকে পড়া আরও দুই শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম খনিটিতে প্রায় চার হাজার ফুট গভীরে ২৪ জন শ্রমিক কাজ করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং খনির কাঠামোর কিছু অংশ ধসে যায়।
পাশের আরেকটি খনিও বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে ১২ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। উদ্ধারকর্মী ও খনি প্রকৌশলীরা বিকল্প পথ তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত খনিতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও, ভেতরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস ও আগুনের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এতে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানো এবং মরদেহ উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেলুচিস্তানের খনি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রাদেশিকমন্ত্রী মির শোয়েব নওশেরওয়ানি নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং আহত প্রত্যেক শ্রমিককে ৩ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুনে কোয়েটা বিভাগের খানুজাই এলাকায় খনিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরিত হয়ে তিনজন আহত হন। এছাড়া এপ্রিল মাসে বোলান জেলার একটি কয়লাখনির দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন।