সাবেক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ ভাই এবিএম শাহারিয়ারের নামে হস্তান্তরের অভিযোগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৬ সালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে হেবা দলিলের মাধ্যমে শাহারিয়ারের নামে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন হারুন।
দুদকের দাবি, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার উদ্দেশ্যে দুই ভাইয়ের মধ্যে ওই সম্পদ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় হারুন ও তার ভাই শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে সংস্থাটি।
তদন্তে শাহারিয়ারের নামে মোট ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা। সাভার, রূপগঞ্জ, গুলশান ও কিশোরগঞ্জে তার জমি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ছিল ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। একই সময়ে তার ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৪ টাকা। ফলে ব্যয় বাদ দেওয়ার পর বৈধ আয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা ছিল ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা।
তবে তদন্তে তার নামে যে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে বৈধভাবে সম্পদ অর্জনের সক্ষমতার বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটি হিসাব করে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত হেবা দলিলের মাধ্যমে হারুন অর রশীদ তার ভাই শাহারিয়ারের নামে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন। তবে শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে করা মামলায় ওই জমির মূল্য তার সম্পদের হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। জমিটির মূল্য হারুনের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলার সম্পদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের অভিযোগ, হারুন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ থেকেই ওই জমি ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনে শাহারিয়ার তাকে সহযোগিতা করেছেন। দুই ভাই যোগসাজশের মাধ্যমে সম্পদের অবৈধ উৎস ও প্রকৃত মালিকানা গোপন করতে সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হারুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ধারাগুলোর পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হারুন অর রশীদ, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ভাই এবিএম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছিল দুদক। পরবর্তী সময়ে তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের সম্পদের তথ্য যাচাই ও পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই হারুন ও শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুদক।