৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালির মেস্ত্রে শহরে হামলার শিকার হওয়ার দাবি করা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন দেশে ফিরেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে ওই ঘটনার পর নিজের অভিজ্ঞতা ও সহকর্মীদের আচরণ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
বাঁধন জানান, হামলার পর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ, ইতালি সরকার, বাংলাদেশ সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে নিজের সিনেমার টিমের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক, ইতালি সরকার, বাংলাদেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে সহযোগিতা করেছে। তবে তার নিজের টিম তাকে একপর্যায়ে ‘ডিজওন’ করেছে।
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎসবের বাকি কার্যক্রমে টিমের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাকে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেখানেও তাকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে নিজের সহশিল্পীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মায়ের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বাঁধন।
হামলার পর নিরাপত্তা দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ঘটনার রাতেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও তাকে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি ইতালির সরকার, দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং পুলিশ বিভাগ থেকেও নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তার কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক লিডো এলাকায় তার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও জানান বাঁধন।
দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশের মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তিনি মনে রাখবেন।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর ইতালির মেস্ত্রে শহরে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেন বাঁধন।
ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ওই ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।