মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।


তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।


বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম ও অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।


তিনি জানান, ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।


গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষারও মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।


২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য