জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ১৫ দিনব্যাপী তিন হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, এস্টেট অফিসের পরিচালক ড. আবু জাফর আহমেদ শিবলীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ১৭ প্রজাতির তিন হাজারের বেশি বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হবে। রোপণযোগ্য চারার মধ্যে রয়েছে—মেহগনি, গামারি, জারুল, বকুল, মহুয়া, অর্জুন, সোনালু, পিতরাজ, চাপালিশ, শিশু, জয়েনফল, কৃষ্ণচূড়া, গজারী, কাঠগাছ, বহেড়া, নিম ও নাগেশ্বরী (নাগেশ্বর)।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং একটি সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের এই ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। গাছ শুধু আমাদের প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেয় না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন দর্শন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের এই মহতী উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু গাছ লাগালেই হবে না; রোপণকৃত প্রতিটি চারার সঠিক পরিচর্যা, সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও বাসযোগ্য ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে পারব।”
এস্টেট অফিসের পরিচালক ড. আবু জাফর আহমেদ শিবলী জানান, আগামী ১৫ দিন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চারাগুলো রোপণ করা হবে। পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ ধরনের ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সবুজায়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।