এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে: রাষ্ট্রপতি

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫
এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য দিনের পর দিন চোখের পানি ফেলতে হবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।


রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন, তার ওপরই প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্য নির্ভর করে। এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


গুমকে সাধারণ অপরাধ নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না; এর সঙ্গে কেড়ে নেয় পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বস্তি। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে এসব অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘিত হয়।


বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সুমনসহ অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান, আজমীসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের অনেককে বছরের পর বছর ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল। কেউ কেউ ফিরে এলেও এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।


তিনি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো যে অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য