বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে দেশটির সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের করা তার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধও ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ভারত থেকে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে আরও জানিয়েছে, ঢাকা থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং এ বিষয়ে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে ভারতের সংসদীয় কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ভিসা প্রক্রিয়া সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।
গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের আহ্বান
প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
কমিটির মতে, হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন করে আলোচনা শুরু করা উচিত।