নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দীর্ঘদিন ধরে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেকের বেতন ইতোমধ্যে আগের স্কেলের তুলনায় বেড়েছে। এ কারণে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে প্রকৃতপক্ষে কার বেতন কতটা বাড়বে, তা নিয়ে অনেকেই হিসাব করছেন।
তিনি বলেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করছে। মূল্যস্ফীতির কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করবে। পাশাপাশি অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও নেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রোডম্যাপ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রথম ১০টি গ্রেডে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং পরের ১০টি গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২০-এর মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য বা অনুপাত কমে আসবে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি—বিষয়টি এমন নয়। তবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশে কিছুটা মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক হলেও ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয় বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে দেশে মূল্যস্ফীতি একসময় দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছিল, যা বর্তমানে কিছুটা কমেছে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়লে অর্থনীতিতে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকার সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে।