বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাঁধে ভর করে আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিভিন্ন দাবির প্রতি সংহতি জানাচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
৬ দফা দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লংমার্চ করছে। রাশেদ খানের দাবি, লংমার্চে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতের আমির দাবি পূরণ না হলে ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের আমির ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার কথা বলেছেন। একই সময়ে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘NO GAS, NO BILL, NO Service, NO TAX’—এমন পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের একটি অংশও জামায়াতের দাবিকে সমর্থন করছে। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ বর্তমানে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে কোনো আন্দোলন সফল করতে পারবে না। এ কারণে জামায়াতের কাঁধে ভর করে তারা আন্দোলনে ফেরার চেষ্টা করছে।
জামায়াতের আমিরের বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ক্ষমতা সবচেয়ে বড় শত্রু। আর সেই সূত্রে জামায়াত-আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হয়েছে।’
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ জানে জামায়াত কখনো ক্ষমতায় বসতে পারবে না। তবে তাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সম্ভব—এমন উদ্দেশ্যেই জামায়াতের লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে গণহত্যার বিচারের বিষয়টি থাকলেও জামায়াত নেতারা বক্তব্যে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিচার চায়নি। ৭১-এর গণশত্রু আর ২৪-এর গণশত্রু আজকে ক্ষমতার স্বার্থে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।’