দুবাইয়ের সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চাচ্ছে দুদক

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪
দুবাইয়ের সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চাচ্ছে দুদক


দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য ও নথি চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।


দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে আর্থিক ও দুর্নীতিসংক্রান্ত অপরাধের তদন্তে দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও নথি আদান-প্রদান করা হয়।


তদন্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। তাদের কয়েকজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্তকারী দল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।


ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।


দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সদস্য হিসেবে একটি বিশেষ দল অনুসন্ধানটি পরিচালনা করছে।


তবে তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ৭৩ ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।


দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদের অভিযোগ


দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা থেকে। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।


সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়েছিল।


গবেষণায় বলা হয়, এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও পাওয়া যায়।


এ ছাড়া চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য